Posts

Showing posts with the label অাগস্ট সংখ্যা/১৮

বই আলোচনা | তরুণ কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ বরকত আলীর সামাজিক উপন্যাসঃ " শাপলা শালুক "

Image
বইঃ শাপলা শালুক লেখকঃ মুহাম্মদ বরকত আলী প্রকাশকঃ ইতি প্রকাশন ( ঢাকা, বাংলাদেশ) প্রকাশকঃ অসময় প্রকাশনি ( কলকাতা, ভারত) ধরনঃ সমকালীন উপন্যাস উপন্যাসের প্রধান চরিত্রে আছে মানিক, সখি। গ্রামে সাধারণ ছেলেমেয়েরা এক সাথে স্কুলে যায়, খেলা করে। ঠিক তেমনি মানিক, সখি দুজন বন্ধু। মানিকের বাবা রহিম মিয়া গ্রামের সবচাইতে দরিদ্র মানুষ। একছটাক জমি নেই তার শুধু বসত ভিটে ছাড়া। ফসলের মাঠে যখন যে কাজে জন্য ডাক পড়ে সেই কাজ করে বেলা শেষে ধান, গম যা দেয় তা নিয়ে আসে হাসি মুখে। কখনো ঘাষ কেটে মোকামে বিক্রি করে খাবার জোগায়। এভাবেই কেটে যায় সংসার। সখির বাবা গ্রামের প্রভাবশালী লোক। তাই দরিদ্র রহিম মিয়ার ছেলে মানিকের সাথে খেলা করতে দেয় না সখির মা। তবুও সবাইকে ফাঁকি দিয়ে দুজনে ঘুরে বেড়ায় বন বাদাড়ে। উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় রয়েছে গ্রামের ছোয়া। বাংলা বারো মাসের ধারাবাহিতা, ফল, ফুল, উৎসব। যাত্রাপালা, বৃষ্টি প্রার্থনা, মাছ ধরা, চড়ুই ভাতি, পুতুলের বিয়ে, খেজুরের রস খাওয়া,বৈশাখী মেলা, এমন কোনো কিছুই বাদ যায়নি যা গ্রামে ঘটে থাকে। শাপলা শালুক উপন্যাসটি পুরোপুরি গ্রামীণ পটভূমিতে লেখা। যারা গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠেছে, কি...

কবিতাঃ আমার পাখি | আজহার মাহমুদ

Image
রোজ বিকেলে অপলকে যারে চেয়ে থাকি, তাকে আমি আদর করে পাখি বলে ডাকি। মিষ্টি মিষ্টি হাসি তার মায়াবী দুটি আঁখি, আর কারো নয়, সে শুধু আমার প্রাণের পাখি। দেওয়ার মতো নেই কিছু আর পাখিরে দেওয়া বাকি, তবু পাখি দিয়েছে আমায় অনেক বড় ফাঁকি। আজও আমায় কাঁদিয়ে বেড়ায় পাখির দেওয়া ফাঁকি, রোজ বিকেলে পাখির আশায় এখনও তাকিয়ে থাকি। লেখক: আজহার মাহমুদ প্রাবন্ধিক, কলামিষ্ট ও ছড়াকার শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। ইমেইল: azharmahmud705@gmail.com মোবাইল: ০১৮৩০১৩৬৮৩৪

ঈদ স্মৃতিঃ এক থালা ভাত | অাহমেদ কিবরিয়া

Image
_______________ __ সম্ভবতঃ ২০১৪ সালের কথা। ঈদের দিন। ভাইদের সাথে নামাজ পড়ে বাসায় আসলাম। বাড়ির বড়রা কুরবানির জন্য ব্যস্ত। আমি অসুস্হ থাকায় এগুলোর ধারের কাছে গেলাম না। বাড়ির কাজের লোকেরাই ভাই ও বড়আব্বুদের সাথে ছিলো। আমি আম্মুর সাথে রান্নাঘড়ে গল্প করছিলাম আর চা পান করছিলাম। আম্মু বললো, মাংস রান্না হতে হতে দুপুর গড়িয়ে যাবে। তুই কৈ মাছ ঝোল করেছি সেটা দিয়ে খা। আমি বাধ্য ছেলের মতো তাই করলাম। দিনটা এভাবে গেলো। সন্ধায়, শুরু হলো ভাবীর চেঁচামেচি। আম্মু কিছু বলছেনা। ভাইয়া মন খারাপ করে বসে আছে। সবাই খাচ্ছিল। আমি তখনও খাইনি। মানে আমার রুচি ছিল না। জ্বর হলে যা হয়। হঠাৎ চাচী এসে জোর করে বাসায় নিয়ে গেলো খাওয়ার জন্য। গেলাম আর অল্প করে খেয়ে চলে আসলাম। কিছুক্ষণ পর, ভাবী ডাকলো, ভাত খাবা না। আমি বললাম, না। -কেন খাবেনা? -রুচি নাই। -খেতে হবে আমি বলছি। -না খাবো না প্লিজ। -তুই খাবি, তোর ভাই বলেছে তাই তোকে খেতে হবে। ভয়ে ভাত খেলাম। ভাবীর দিকে খেয়াল করলাম। উনার মুখে ছিল বন্য পরিহাস আর তাচ্ছিল্য । রাতে শুরু হলো অস্বাভাবিক খারাপ লাগা। বমি বমি ভাব, গলা জ্বলে যাচ্ছিল, চোখে ঝাপসা দেখছিলাম। আম্মু আমার রুম...

ছড়াঃ ভাষার মান | রাসেদুল হাসান রাসেল

Image
বাংলা অামার প্রাণের কথা, বাংলা অামার মায়ের ভাষা।  এই ভাষাতেই  প্রকাশ করি, অামার মনের যত অাশা। এই ভাষাতেই ছন্দ লিখি, মাঝির সুরে মধুর গীতি। এই ভাষাতেই চলন, বলন, বাংলা মায়ের যত রীতি। এই ভাষাতেই  বলতে কথা, রফিক,শফিক দিল প্রাণ। বুকের রক্ত  দিলো তারা, রাখলো মায়ের ভাষার মান।

নিবন্ধঃ অটিজম প্রতিরোধে চাই সচেতনতা | মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

Image
অটিজম আক্রান্তদের প্রতি অযত্ন অবহেলা না করে সাধারণ নাগরিকদের মত জীবন যাপনে সুযোগ করে দেয়ায় আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের অনেকের ধারনা, অটিজম একটি বংশগত রোগ। এটা সম্পূর্ণভাবে ঠিক নয়। সম্পূর্ণ সুস্থ বাবা মায়েরও অটিস্টিক শিশু হতে পারে। আবার অনেকের ধারনা সঠিক পরিচর্যার অভাবে শিশু অটিস্টিক হতে পারে। এটাও কিন্তু ঠিক নয়। অটিস্টিক শিশুকে অনেকে বাবা মায়ের অভিশাপ বলে থাকেন, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। অনেক শিশু জন্ম ও স্বভাবগতভাবেই একটু বেশি অস্থির, চঞ্চল, রাগী অথবা জেদি প্রকৃতির হতে পারে। এতেই কিন্তু বোঝা যায় না যে শিশুটি অটিস্টিক। আমাদের সমাজের নানান ভুল ধারনা ও কুসংস্কারের ফলে অনেক শিশুর ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকে, যা শিশুর জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।কোনও শিশু অটিজমে আক্রান্ত মনে হলে অনতিবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় অটিজম নির্ণয় করতে পারলে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করলে অটিজম এর ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়াগুলো অনেক সফলভাবে মোকাবেলা করা যায়। শিশুর কি ধরনের অস্বাভাবিকতা আছে সেটা সঠিকভাবে নির্ণয় করে, নির্দিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে ...

প্যারেন্টিংঃ অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণঃ প্যারেন্টিং এর কয়েকটি অজানা বিষয় যা আপনি কখনও খেয়াল করেন নি

Image
_______________ _____ প্যারেন্টিং নিয়ে এই অনেকেই আলোচনা করেছেন। সন্তান লালনপালনে অভিভাবকরা কি ভুমিকা রাখবেন তাই আমরা সাধারনত প্যারেন্টিং বলে থাকি।আজ আমি শুধু প্যারেন্টিং এর ক্ষেত্রে আমার কিছু অভিজ্ঞতা ও বিষয় আলোচনা করবো। আসুন দেখে নেই কি কি বিষয় থাকছে আজকের আলোচনায়। ১/ স্কুলে সন্তানের অবস্হাঃ আপনার সন্তান স্কুলে যাচ্ছে, বাসায় আসছে আর আপনিও স্বস্হির নিঃশ্বাস ফেলছেন যে, যাক আমার বাচ্চা তাহলে পড়ালেখা ভালই করছে। কিন্তু আপনি হয়তো খেয়াল করেন নি, আপনার অজান্তেই আপনার সন্তানটি কোনো না কোনোভাবে শারিরিক, মানুসিক কিংবা যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে। আর, আপনার সন্তান সেটা লজ্জা বা ভয়ে বলতে পারছে না। এসব কাজে হয়ত স্কুলের শিক্ষক, কর্মচারী এমনকি ঝালমুড়ি ও আইসক্রিমওয়ালারা ও জড়িত থাকতে পারে। তাই সময় দিন। সপ্তাহে একদিন হলেও তার স্কুলে যান, চারপাশ খেয়াল করুন, বাচ্চাকে খুব কৌশলে বুঝিয়ে বলুন, যে তার সাথে কোনো সমস্যা হচ্ছেনাতো? তার উত্তর যদি ইতিবাচক হয় তারপরও চুপ থাকবেন না। কারন, এসব ক্ষেত্রে শিশুর আচরনের ও কাজকর্মের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। আপনি ভালোভাবে খেয়াল করলে সেটা বুঝতে পারবেন। আর, স্কুলে যে যাচ্ছেন...

ছড়াঃ খুকির আনন্দ | শিকদার বাসীর

Image
প্রজাপতির নাচটা দেখে খুশি হলো খুকি !  তাইনা দেখে সূর্যটাও দিলো হেসে উঁকি। গাছের ডালে পাখিরা সব সুর তুলেছে মধুর !  মক্ষিকা'রা মধু নিতে ফুল্-বাগিচার অদূর। খুকি এসব মেলার স্রোতে নাচে তুড়ি দিয়ে বলছে, জানো ! আগামীকাল দেবো পুতুল বিয়ে।। 

ছড়াঃ দাদুর কাণ্ড | মোঃরাইসুল ইসলাম

Image
বাসে বসে একলা আমি খাচ্ছিলাম রে আমড়া। সারাদিনে জার্নি করে চাচ্ছিলো মন 'কামড়া' ! ..... একটা আমড়া ইচ্ছে করে মারলাম ছুঁড়ে বাইরে । পড়ল গিয়ে দাদুর মাথায় ধোলাই বুঝি খাই রে ! ..... এদিক ওদিক চেয়ে দাদু আমার পানে চায়রে ! ধরবে বুঝি এবার আমায় রেহাই বুঝি নাইরে। ..... লাঠি নিয়ে দাদু মশাই  আসছিল যেই তেড়ে। কপালগুনে খুবই জোরে গাড়ি দিল ছেড়ে। ...... দাদু মশাই রেগে বলে আবার বেটা আসিস ! তুলে নেব চামড়া গায়ের ক্যামনে দেখি বাঁচিস ?

কবিতাঃ শরৎ এলে | কবির কাঞ্চন

Image
নদীর চরে ফুটে যখন সাদা কাশফুল তখন বুঝি শরৎ এসে করে ব্যাকুল। ব্যাকুলতা বাড়ে আবার বৃষ্টি হলে   ফুলপরীরা নৃত্যে মাতে মিষ্টি জলে। বৃষ্টি ফোটা ঘাসের বুকে তুফান তুলে প্রজাপতি পাখি উড়ে ফুলে ফুলে। ফুলের মধু আহরণে অলি ছুটে সৃষ্টি সুখের জোয়ার আসে দুঃখ টুটে। অপার সুখে ফড়িং নাচে   ডানা মেলে বাংলা সাজে রূপের রানী শরৎ এলে। পরিচিতি ও যোগাযোগ : কবির কাঞ্চন সহকারী শিক্ষক   বেপজা পাবলিক স্কুল ও কলেজ চট্টগ্রাম সিইপিজেড, চট্টগ্রাম   যোগাযোগ - ০১৬৭৩৯০৩৫০৩                     ০১৯৬০০৯০৭৭৬ email:   kabirctg1985@gmail.com ‎ফেসবুক : কবির কাঞ্চন

কবি পরিচিতি

Image
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ ।জন্ম - ১৩৮৭ বাংলা,১৭ আষাঢ়,রোজ- মঙ্গলবার (১৯৮০ খ্রীঃ),শেরপুর সদর উপজেলার চৈতনখিলা গ্রামের এক সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারে। পিতা-মৌলভী মোঃ জোবায়েদ উল্লাহ।মাতা- মরিয়ম বেগম।কবির নব্বই দশক থেকে লেখা লেখি শুরু। প্রকাশিত বই ১৯টি।২০১৮খ্রীঃ বইমেলায় প্রকাশ-ছড়া দিয়ে গড়বো এদেশ,তোমাকে খুঁজে ফিরি চৈতালী হাওয়ায়,মজার মজার গল্প,ফুলে ফুলে সুবাসিত ভোর।পেশা-শিক্ষকতা,সা­ংবাদিকতা। যোগ্যতা- বি. এ (অনার্স). এম. এম.( ফাস্ট ক্লাস), ডি. ইউ. এম. এস.( ঢাকা)

অামাদের অালাপন

Image
প্রিয় ছোট্ট বন্ধুরা,  অাসসালামু অালাইকুম। অাশা করি সবাই ভালো ও সুস্হ অাছো। সবাইকে শিশুকিশোর ওয়েব পোর্টাল  🐤 টুনটুনি 🐤  পক্ষ থেকে ঈদুল অাযহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। প্রথমে যে কথা না বললেই নয়। অাসলে পত্রিকা সম্পাদনা করার সময় ও সামর্থ্য দুটোই অামার নেই। তবুও তো শুরু করতে হয়। ছোট থেকে শিখে শিখে  🐤 টুনটুনি 🐤  এগোতে চায়। অার দুঃখজনক হলেও সত্য ঠাকুরগাঁওয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ছোট্ট শহরে শিশুদের জন্য কোনো পত্রিকা নেই, কারও উদ্যোগও দেখলাম না। তাই অাপাততঃ এভাবে ব্লক ভিত্তিক অাকারে বের করছি। সমস্যা হলো, ভালো ও বিশস্ত কোনো পিডিএফ ডিজাইনার পাচ্ছি না। পেলে খুব শিঘ্রী প্রতি মাসে ঝলমলে রঙিন পিডিএফ ফাইল অাকারে বের করে সেটি পত্রিকার সাইটে অাপলোড করে দিবো। অার সবার সহযোগিতা ও বিজ্ঞাপন পেলে পত্রিকার প্রিন্ট ভার্সনও বের করবো। প্রতিটি লেখককে বিনামূল্যে সৌজন্য কপি দিবো ইংশাঅাল্লাহ্। অাপাততঃ অামরা পরিক্ষামুলক প্রচার করছি তাই সকলে বিষয়টি পজেটিভ ভাবে নিবেন। তো, অনেক কথা হলো! অাজ অার নয়। সবাই ভালো থাকো, সুস্হ থাকো অার  🐤 টুনটুনি 🐤  এর সাথেই থাকো। ধন্যবাদ!!  ----...

গল্পঃ কোরবানির শান্তগরু | কবির কাঞ্চন

Image
এইমাত্র স্কুল থেকে বাসায় ফিরেছি। বাসার সিঁড়িতের পা রাখতেই আমার একমাত্র ছেলে সাঈদের দিকে দৃষ্টি পড়ে। এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলাম। ওর চোখেমুখে আনন্দ। খুব ব্যস্ত সময় পার করছে। উঠোনে তিনটি গরু আছে। লালগরু, সাদাগরু ও কালোগরু। আমাদের পাশের বাসার লোকেরা কোরবানির উদ্দেশ্যে গতকাল কোরবানির হাট থেকে কিনে এনেছেন। গতকাল রাত থেকে সাঈদের দৌড়াদৌড়ি বেড়ে গেছে। রাতে ঘুমোতে যাবার কালে ও বারবার জিজ্ঞেস করেছে। কখন আমাদের গরু কিনবে, বাবা। কালকে নিয়ে আসো না। সবাই গরু নিয়ে এসেছে। শুধু আমাদের গরুটা------।  এই কথা বলে মন খারাপ করে বালিশে মুখ লুকিয়ে রাখে। আমি আলতো করে ধরে ওর মুখে, কপালে চুমো খেয়ে বললাম, - আর মন খারাপ করতে হবে না। আগামীকালই আমাদের কোরবানির গরু কিনব। সাঈদ মুখে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, - আমায় নিবে না, বাবা? আমি বিস্মিত চোখে বললাম, - কোরবানির গরু কিনতে হাটে যাবো। আর আমার বাপজানকে সাথে নেবো না। এ কি হয়! সাঈদ হঠাৎ দাঁড়িয়ে আমার কপালে চুমো খেয়ে বলল, - ধন্যবাদ, বাবা। এ জন্যই তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো বাবা।  ওর মুখে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শুনে আমার খুব ভালো লাগে। এরিমধ্যে আমার স্ত্রী সবকিছ...

গল্পঃ ফাহিমার স্বপ্ন | মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর

Image
ঘরের জানালা খুলে দাঁড়ালেন ফাহিমা। তাকালেন নীলিম আকাশের পানে। আপন মনে দেখছেন বিশ্বপ্রকৃতি। দেখছেন নীল আকাশ। সবুজ বনানী। দেখছেন গাছগাছালি। সবুজের মাঠ। ধানের খেত। সরষে ফুলের হাসি। প্রজাপতির উড়াউড়ি। পাখিদের নাচানাচি। দোয়েলের শীষ দোলানো নৃত্য। শিশিরভেজা দূর্বাঘাস। খালি পায়ে হেঁটে চলা টোকাই। ছেঁড়া জামা গায়ে এগিয়ে চলা পথশিশু। শীতে কাঁপছে ওদের কচি দেহ। কোমল প্রাণ। তবুও জীবনের তাগিদে এগিয়ে চলছে ওরা। সামনে। ক্রমাগত লক্ষ্যপানে। এসব দেখছেন ফাহিমা। একান্ত আপন মনে। আপনার করে। দেখছেন আর ভাবছেন। ভাবছেন আর হারিয়ে যাচ্ছেন অন্য জগতে। অন্য ভুবনে। বিবেক তাড়িত জমিনে। আহত আত্মার বিচরণ মাঠে। মাঠকর্মী হয়ে। আবারও বাইরে তাকালেন ফাহিমা। চোখ গিয়ে পড়ল রাস্তায়। মানুষের হেঁটে চলা জমিনে। মেঠোপথে। দেখলেন আরেকজন টোকাই হাঁটছে। গায়ে ছেঁড়া জামা। পায়ে নেই জুতো। এই কঠিন শীতে এগিয়ে যাচ্ছে সামনে। যোদ্ধাবেশে। যোদ্ধা সেজে। জীবনের তাগিদে। প্রয়োজন পূরনে। মানবতা রক্ষায়। জীবন বাঁচানোর জন্য। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে। ওকে দেখে হোঁচট খেলেন ফাহিমা। আর স্বাভাবিক থাকতে পারলেন না তিনি। বিবেক তাড়িত হলেন খুব বেশি। অনেক কষ্ট ...

গল্পঃ শরতের সকালে | মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর

Image
পাখিদের কূজনে ঘুম ভাঙে জাহিদের। আবারও ঘুমানোর চেষ্টা করে সে। এপাশ-ওপাশ কাটতেই সালাতুল ফজরের আযানের সুর ধ্বনি কানে বাজে ওর। আর ঘুমাতে পারেনা জাহিদ। বিছানা ছেড়ে নেমে আসে রাস্তায়। ধীর পায়ে এগিয়ে যায় নদীর পাড়ে। যমুনার পাড়। এমন সকালে খালি পায়ে নদীর পাড়ে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা! নবম শ্রেণীর ছাত্র জাহিদ প্রতিদিনই এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে থাকে। আজও সে এগিয়ে এসেছে নদীর পাড়ে। যমুনার তীরে। নদীর তীরে সে ঘুরে বেড়াচ্ছে আপন মনে। একান্ত হৃদয়ের জানালা খুলে। ঘুরে ফিরে দেখছে প্রকৃতির হাতছানি! স্নিগ্ধ সকালের কোমল পরশ! কাশফুলে ঘেরা যমুনার উদাস করা আকুলতা! নদীর কলতান! পাখিদের কুহুতান। সূর্যোদয়ের আবিলতা! জাহিদ এগিয়ে যায় সামনে। ক্রমাগত মঞ্জিলপানে। একটু এগুতেই চোখে পড়ে যমুনার ভাঙনের দৃশ্য। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিঘা বিঘা ধানি জমি। জমির আবাদ। কৃষকের কলিজার ধন। বুকের মানিক। সবুজের স্বপ্নীল ছায়া। নিজের গ্রাম। গ্রামের মাটি। মাটির ফসল! জাহিদের চোখে পড়ে যমুনার ভাঙনের ভয়ঙ্কর চিত্র। যমুনার গর্জনে আৎকে ওঠে জাহিদের কচি প্রাণ! কোমল হৃদয়! যমুনার ভয়ঙ্কর এ দৃশ্য ওকে খুব করে ভাবিয়ে তোলে। পীড়া দেয় অনেক বেশি করে...

শিশুতোষ গল্পঃ রাজকন্যা ও ব্যাঙ | মোনোয়ার হোসেন

Image
অনেক দিন আগের কথা। এক রাজার এক মেয়ে ছিল। তার নাম ছিল রাজকন্যা। রাজকন্যা দেখতে ছিল ভীষণ কিউট । তাই তার মনে খুব অহংকার ছিল। সবসময় সে সুন্দরকেই পছন্দ করত , আর ভালোবাসত। দেখতে বিচ্ছিরি এমন কাউকে দেখলে নাক ছিঁটকাত । ঘৃণায় তার শরীর রি রি করত । সেই রাজকন্যার ছিল একটি সুন্দর সোনালি রঙের বল । জন্মদিনে বাবা তাকে এই বল উপহার দিয়েছিল । বলটি ছিল রাজকন্যার ভীষণ পছন্দের। সব সময় এই বলটি নিয়েই খেলা করত সে। একদিন বিকেলে বলটি নিয়ে রাজপ্রাসাদের বাইরে বাগানে খেলছিল সে ।এমন সময় তার কাছে লাফাতে লাফাতে এল এক বিচ্ছিরি ব্যাঙ।  বলল, তোমার বলটি খুব সুন্দর ! আমাকেও তোমার সাথে খেলতে নিবে? বিচ্ছিরি ব্যাঙ দেখেই তো রাজকন্যার শরীর ঘৃণায় রি রি করে উঠল।  নাক কুঁচকে গেল। আর এই বিচ্ছিরি ব্যাঙ কিনা বলে তার সাথে  খেলতে হবে ! রাগে কাঁপতে লাগল রাজকন্যা ।  বলল, বিচ্ছিরি ব্যাঙ, তোমার এত সাহস হয় কি করে যে, তুমি একটা বিচ্ছিরি ব্যাঙ হয়েও আমার সাথে খেলতে চাও ? আমি কোনো বিচ্ছিরি ব্যাঙের সাথে খেলা করি না। বলে রাজকন্যা রাগে গর গর করতে করতে প্রাসাদে ফিরে এল। পরের দিন রাজকন্যা আবার বাগানে খেলতে গেল। মাটি...